০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৪:০৮:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমি দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো, হিরো আলম বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে জনগণ, ফখরুল ফের শীত বাড়তে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে
প্রতিবন্ধী সোহেল চালান ৪ জনের সংসার
সাইফুল ইসলাম মুন্না
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২২-১২-২১
প্রতিবন্ধী সোহেল চালান ৪ জনের সংসার

জন্মের মাত্র ১২ বছর পরে টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থের সংকট চিকিৎসার অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে।  ফলে পা দুটো পুরোপুরি কাজ করার সামর্থ্য হারায়। 

কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধী তার কারণে হার মানেননি। আর দশজনের মতো জীবন যুদ্ধে কাজ করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য গড়ে তোলেন ভ্রাম্যমাণ আচারের দোকান।  এই দোকানে বসে মুখোরচক খাবার ও আচার বিক্রি করে চলছে তার সংসার। আজকে তারে জীবনযুদ্ধের কোথায় আপনাদের মাঝে তুলে ধরব। 

২৫ বছর বয়সী সোহেল রানার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধুমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তার বাবার নাম মনিরুল ইসলাম। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হন তিনি। বয়সের ভারে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তার বাবাও। তার ভ্রাম্যমাণ আচারের দোকানের উপার্জনে চলছে বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ৪ জনের সংসার।

পায়ে চলতে অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মধ্যেও তিনি তাঁর এই ভ্রাম্যমান আচারের দোকানের ব্যবসা শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী তাকে একটি হুইল চেয়ার যুক্ত ছোট্ট উপহার দেয়।  ১০ বছর আগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাওয়া ৫০০ টাকা দিয়ে ওই ভ্যানে ভ্রাম্যমাণ দোকানে দেন। সেখানে পণ্য বিক্রি শুরু করেন। এতে আমড়া, জলপাই, বরইয়ের আচার, ভাজা, বিস্কুট, পাউরুটি, কেক বিক্রি করেন তিনি।  

তিনি জানান যে প্রতিদিন তিনি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিজ এলাকায় দক্ষিণপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় খাবার ও আচার বিক্রি করেন সোহেল। এছাড়াও শুক্র-শনিবার ও প্রতিদিন বিকেলে গ্রামে গ্রামে ঘুরে খাবার বিক্রি করেন তিনি। ভিক্ষা না করে নিজের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে জীবিকা নির্বাহ করায় তার প্রতি সহমর্মিতা দেখায় স্থানীয়রা। শুধু তাই নয় বিভিন্ন পদের আঁচার এর পাশাপাশি তিনি ভাজা চানাচুর বিস্কুট থেকে শুরু করে কেক ইত্যাদি খাদ্য পণ্য বিক্রি করে থাকেন। 

দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর মুঠোফোনে জানান, প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদের সম্পদ। মেধা, সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তারাও সাফল হতে পারে। সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সোহেল রানা। সে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পায়। তবে এতে যেহেতু সংসার পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সে ভ্রাম্যমান দোকান চালায়। সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানে সোহেল রানার মতো মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন