০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০২:২৮:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে ৬টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা, বিটিসিএল কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বাগেরহাটের ইপিজেডের কারখানায় লাগা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি দেশে ফিরছেন সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার রোজিনা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ২ শিশুকে হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মাকে হত্যার পরে পাঁচ টুকরো করায় ছেলে কবির এবং তার ৬ সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড
নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৩-০১-২৪
মাকে হত্যার পরে পাঁচ টুকরো করায় ছেলে কবির এবং তার ৬ সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড মাকে হত্যার পরে পাঁচ টুকরো করায় ছেলে কবির এবং তার ৬ সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জাহাজমারা গ্রামে গৃহবধূ নূর জাহানকে (৫৮) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ছেলে।হত্যার পরে পাঁচ টুকরো করে। এই ঘটনায় ছেলে হুমায়ন কবির এবং তার ৬ সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের  জাহাজমারা গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে হুমায়ন কবির (২৯), একই গ্রামের মিলন মাঝির ছেলে নীরব (২৮), নূরে আলমের ছেলে নূর ইসলাম (২৮), দুলাল মাঝির ছেলে আবুল কালাম মামুন (২৮), হারুনের ছেলে মিলাদ হোসেন মামুন (২৮), মমিন উল্যার ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং মারফত উল্যার ছেলে হামিদ (৩৫)। 

এ ঘটনায় প্রথমে নিহতের ছেলে হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে চরজব্বার থানায় একটি মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই মামলার বাদী হুমায়নকে আটক করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী খুন হয়েছে প্রমাণ মেলে। তখন তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৭ই অক্টোবর বিকেলে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের মাঝের ধান খেত থেকে নূর জাহান নামের ওই নারীর মৃতদেহের একটি অংশ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নিহতের শরীরের আরও ৪টি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর রাতে খাওয়ার পর নিজের শোবার ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন নূর জাহান। রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১২টার মধ্যের কোনো এক সময় জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হুমায়ন কবির তার ৬ সহযোগীকে নিয়ে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় নূর জাহানকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী মৃতদেহটি পাশের একটি ধান খেতে নিয়ে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ৫ টুকরা করে। পরে মৃতদেহের খণ্ডিত অংশগুলো ধান খেত ও একটি বিলের মধ্যে ফেলে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গুলজার আহমেদ জুয়েল বলেন, ‘এ ঘটনায় আদালত মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যেহেতু এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সেহেতু সব আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমরা খুশি।

আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুর রহমান বলেন, ‘আসামিরা সবাই বয়সে নবীন। যেহেতু পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেহেতু মৃত্যুদণ্ডের রায়টি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন