০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৩:০১:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে ৬টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা, বিটিসিএল কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বাগেরহাটের ইপিজেডের কারখানায় লাগা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও পিস্তল ঠেকিয়ে পায়ে গুলি
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৩-০১-২৪
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও পিস্তল ঠেকিয়ে পায়ে গুলি ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও পিস্তল ঠেকিয়ে পায়ে গুলি

ডিবি পরিচয়ে মারধর ও গুলি করার ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলের জিয়াউল সরকার (৪৫) নামে এক ইট ব্যবসায়ীকে ডিবি পরিচয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও পিস্তল ঠেকিয়ে পায়ে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে।

আজ (২৪ জানুয়ারি)  মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আমঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই যুবলীগ নেতার নাম শিপন পাটোয়ারী। তিনি ওই ইউনিয়নের বেশনাল এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর ভাই ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার পথে শিপন পাটোয়ারী ও তাঁর লোকজন ব্যবসায়ী জিয়াউল সরকারকে ডিবি পরিচয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে ওই ইউনিয়নের আমঘাটা এলাকায় নিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং পিস্তল ঠেকিয়ে পায়ে গুলি করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত জিয়ার বড় ভাই বাবুল সরদার বলেন, ‘জিয়া পোড়া বাজারে ইট-বালুর ব্যবসা করেন। তার মেয়ে দিঘিরপাড়ে জাপানি স্কুলে পড়ে। আজকে তাকে আনতে গেলে বেশনাল ব্রিজে একটি মাইক্রোবাস ও তিন-চারটি মোটরসাইকেল জিয়ার পথ রোধ করে। পরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিয়াকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। গাড়ির ভেতরে মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর ভাই শিপন পাটোয়ারী ও তাঁর লোকজন লিটন পাটোয়ারী, শাহ-আলম, জাহাঙ্গীর, সাদ্দাম, কামাল, আরিফ, সোহাগ, মোসলেম, দিলদারকে দেখে জিয়া চিৎকার দিলে তাঁকে সিটের নিচে ফেলে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে নিয়ে যায় আমঘাটা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ির বাগানে। সেখানে নিয়ে শিপন পাটোয়ারী ও তাঁর লোকজন মিলে জিয়ার পায়ে গুলি করেন ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এরপর একটি ভ্যানগাড়ি করে দিঘিরপাড় বাজারে পাঠিয়ে দেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক শৈবাল বসাক বলেন, ‘আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পায়ে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহসীনা হক কল্পনা বলেন, ‘কয়েক দিন পরপর রিপন পাটোয়ারীর ভাই শিপন পাটোয়ারী ও তাঁর লোকজন ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে দিনে-রাতে লোকজনদের অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করেন। গেল নির্বাচনের সময় আমার লোকজনকে তুলে নিয়ে কুপিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে একাধিকবার পুলিশ সুপার ও থানায় জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।

এই বিষয়ে কথা হয় শিপন পাটোয়ারীর বড় ভাই ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারীর সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটেছে লোকমুখে শুনেছি। তবে আমার ভাইয়ের নাম দিচ্ছে আমার প্রতিপক্ষরা। আমার ভাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে কি না সেটা আমার সন্দেহ হচ্ছে। ওর বাড়ি পূরা আর আমাদের বাড়ি আমঘাটা। এত দূরত্বে কীভাবে সম্ভব? আমার ভাইয়ের সঙ্গে ওর কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমার প্রতিপক্ষ যারা আছে তারা সেটা রটাচ্ছে। আমার ভাইকে যেন ফাঁসানো যায়, বদনাম করা যায়।

গুলি করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ কি এতদূর থেকে ধরে এনে বাড়ির সামনে এনে গুলি করে? 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এ ঘটনার অন্তরালে কে বা কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

ওসি বলেন, ‘আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে পুলিশ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আহতের সঙ্গে দেখা করেছে এবং মৌখিকভাবে করা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশ নিজেদের মতো করে অভিযান পরিচালনা করছে।’ 

ওসি আরও বলেন, চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সমর্থকদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। 

শেয়ার করুন