০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৪:০২:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমি দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো, হিরো আলম বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে জনগণ, ফখরুল ফের শীত বাড়তে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম করে আলোঢ়ন সৃষ্টি
ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৩-০১-২৫
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম করে আলোঢ়ন সৃষ্টি আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম করে আলোঢ়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষক মনির। কৃষক মনিরের বাড়ি রাজশাহী শহরে হলেও গোদাগাড়ীর কৃষক হিসাবে তাকে সবাই চিনেন ও জানেন। মনিরের গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামে কৃষি খামার রয়েছে। সে খামারে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যাবহার করে নতুন নতুন ফসল চাষবাদ করে।  

কৃষক মনিরের চাষবাদ দেখে নতুন চাষবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। এবার সে খামারে জোড় কলম পদ্ধতি ব্যাবহার করে ৪০ টি আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম করেছেন কৃষক মনির। আলুর গাছে টমেটোর গাছ তৈরী করে রিতীমতো আলোঢ়ন সৃষ্টি করেছে কৃষক মনির। দুরদুরান্ত থেকে তার এই জোড় কলম পদ্ধতির টমেটোর গাছ দেখতে আসছে আগ্রহী কৃষকরা। শুধু তাই নয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা তার কৃষি খামারে আলু গাছে তৈরী করা টমেটোর গাছ দেখতে ও শিখতে আসছেন।

জানা যায়, টমেটো এবং আলু উভয়ই একই গোত্রের (nightshades) দীর্ঘ রাত্রির উদ্ভিদ এ কারনে এদের মধ্যে জোড় কলম পদ্ধতি বেশ কার্যকর। উভয় গাছেই থাকে আল্কালয়েড নামক একপ্রকার উপাদান যা গাছকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে।

জোড় কলমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটা সময় এবং স্থান সাশ্রয়ী । একই গাছে আলু এবং টমেটো উৎপাদনের ফলে অর্থনৈতিক ভাবে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।

আলু এবং টমেটো একই গাছে উৎপাদন করার ধারনা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট এ। যুক্তরাজ্যের গবেষকরা সম্প্রতি এই ধারণার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। তারা একই গাছে উপরে টমেটো আর নিচে আলু ফলাতে সক্ষম হয়েছেন যাতে আলু ও টমেটোর স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে। এই কাজের জন্য তারা জিন প্রকৌশল নয়, গ্রাফটিং বা জোড় কলমের আশ্রয় নিয়েছেন। টমেটোর সঙ্গে আলুর জোড় কলম পদ্ধতিতে আলু ও টমেটো একই গাছে উৎপাদন করা সম্ভব ।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক আলু গাছকে স্টক বলা হয়। মাটি থেকে প্রায় ১ ইঞ্চি উপরে ভি-শেপ করে কেটে নিয়ে উপরের অংশটি ফেলে দিতে হবে।

অন্যদিকে একটি টমেটো গাছকে (সায়ান বলা হয়) মাটি থেকে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি কেটে আগাসহ উপরের অংশটি কেটে নিতে হবে। এ কাজের জন্য আলু গাছের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ নিলে গ্রাফটিং বা জোড় কলম করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয়। তারপর টমেটো গাছের কাটা অংশটি আলু গাছের কাটা অংশটির উপর প্রতিস্থাপন কড়তে হবে। একে বলা হয় গ্রাফটিং বা জোড় কলম। গ্রাফটিং করা অংশটি গ্রাফটিং রেপিং টেপ দিয়ে ভালোভাবে পেঁচিয়ে দিতে হবে। প্রতিস্থাপিত অংশ থেকে নতুন পাতা গজানোর আগপর্যন্ত রেপিং টেপ খোলা যাবেনা।

কৃষক মনিরের খামারে তার সাথে কথা বলে জানা গেছে। টিভিতে আলু গাছে জোড় কলম পদ্ধতিতে টমেটোর গাছ তৈরী করা দেখে সে পরীক্ষা মুলক ভাবে ৪০ টি আলু গাছে জোড় কলম পদ্ধতিতে টমেটো গাছ তৈরী করেছে এবং এতে সে সফল হয়েছেন।

কৃষক মনিরের মতে, গোদাগাড়ী উপজেলা টমেটোর জন্য সারা বাংলাদেশে বিখ্যাত। দেশের সিংগভাগ টমেটো উৎপাদন হয় এ উপজেলায়। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে কৃষকেরা টমেটোর তেমন দাম পাই না। তাই এ উপজেলার কৃষকরা টমেটোর ক্ষেত থেকে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টমেটো সংগ্রহ করে। তারপর টমেটোর গাছ কেটে বোরো ধানের আবাদ কওে থাকে। জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝিতে এ উপজেলায় আর টমেটো পাওয়া যায় না। এপ্রিল মে মাসে টমেটোর আবার বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাই। তাই এপ্রিল মে মাসে টমেটোর বাজার ধরার জন্য অল্প পরিসরে হলেও এ পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে চান কৃষক মনির।

মনির বলছেন, আলু গাছ ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি লম্বা হলেই আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম ভাল হচ্ছে। আলু গাছ বেশী বড় হলে জোড় কলম ভালো হচ্ছে না। জোড় কলম করার ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় টমেটোর কান্ড থেকে কুশি ছাড়তে শুরু করে। পাতা সবুজ ও সতেজ হলে ৭ থেকে ১০ দিন পর পলিথিনের ব্যাগ খুলে ফেলতে হয়। জোড় কলম করার ১৫ দিনের মাথায় টমেটোর ফুল আসতে শুরু করে। ১ থেকে দেড় মাসের মাথায় টমেটোর গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়।

সে আরো বলেন, এ পদ্ধতি ব্যাবহার করে একই গাছ থেকে দুই রকম সবজি পাওয়া যাবে। কারন আলু লাগানোর পর ক্ষেত থেকে আলু তুলতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস।

এ পদ্ধতিতে টমেটোর গাছ আরো বৃদ্ধি করবেন কি না প্রশ্নের জবাবে কৃষক মনির বলেন, এবার পরীক্ষা মুলক ৪০ টি আলু গাছে টমেটোর জোড় কলম করেছি। আর বৃদ্ধি করার ইচ্ছে নেই।

তবে সে বলেন, এর আগে তীত বেগুন গাছে টমেটোর জোড় কলম করে সফল হয়েছেন। মার্চ মাসে প্রায় ৪০০ টি তীত বেগুন গাছের সাথে টমেটোর জোড় কলম পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে টমেটোর আবাদ করবো। এতে করে অসময়ে টমেটো পাওয়া যাবে এবং দামও ভালো পাবেন বলে আশা তাঁর।


শেয়ার করুন