২৬ মার্চ ২০২৩, রবিবার, ০৩:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আরাভ খানকে আটকের তথ্য জানা নেই, জানালেন আইজিপি হাসপাতালের টয়লেটে নবজাতক রেখে পালিয়ে গেছে এক মা, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজক বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ৫৫ কেজি গাঁজা-৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেফতার খালার জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল আপন দুই ভাইয়ের ফেসবুকে প্রেম, ৭১ বছরে এসে বিয়েটা করেই ফেললেন অধ্যাপক শওকত আলী যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর আঘাত, নিহত হয়েছেন প্রায় ২৩ জন আ’লীগ নেতাকর্মীদের ইফতার মাহফিল না করার নির্দেশ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আ.লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ধান মাড়াই মেশিন তৈরি করে একজন সফল উদ্যোক্তা সানোয়ার
ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৩-০২-১৩
ধান মাড়াই মেশিন তৈরি করে একজন সফল উদ্যোক্তা সানোয়ার সানোয়ারের তৈরি ধান মাড়াই মেশিনের ছবি

নওগাঁর ধামইরহাটে উপজেলার দক্ষিণ চকযদু তিন নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিমের ছেলে সানোয়ার হোসেন। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে সানোয়ারের তৈরি ধান মাড়াই মেশিনের কদর বেড়েই চলেছে।

জানা যায়, অনেক কষ্ট করে ছোট্ট পরিসরে ধান মাড়ায় মেশিন তৈরির কারখানা শুরু করে সে। প্রথমে পাঁচ জন শ্রমিক দিয়ে মেশিন তৈরির কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে ছানোয়ার নিজেই ধান মাড়াই মেশিন তৈরিতে দক্ষ কারিগর হয়ে গড়ে ওঠেন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। ওয়ার্কশপে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে শ্রমিকদের পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার আমায়তাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ভবন কমপ্লেক্সের পাশে সাড়ে সাত শতক জমির উপর ছেলের নামে গড়ে তুলেছেন ‘রাসেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ‘। বাবার সাথে থেকে ছেলে রাসেলও হয়ে উঠেছেন একজন দক্ষ কারিগর। সেখানে ২০ থেকে ২৫ টি ধান মাড়াই মেশিন বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন তিনি। এসব মেশিন কিনতে নোয়াখালী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, রাজশাহী, চাপাই ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এসে ভিড় জমাতে দেখা যায়। প্রকারভেটে এক একটি হারভেস্টার মেশিনের দাম রাখা হয়েছে সাড়ে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা।

এদিকে, ১৯৯৪ সালে অর্থের অভাবে এসএসসি পরীক্ষা দিতে না পেরে লেখাপড়া বাদ দিয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বাবার সাথে কাঠ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। শ্রমিক সংকটের কারণে বাবার সাথে মাঠে ধান মাড়াই করতে গিয়ে পরেন বিপাকে। মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে একটি আধুনিক যন্ত্র তৈরি করে কিভাবে শ্রমিক ছাড়াই খুব সহজে ধান কাটা এবং মাড়াই করা যায় ।

এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এরপর ২০১০ সালে কিছু জমি বর্গা রেখে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার দেনা করে পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকা নিয়ে উপজেলার আমায়তাড়া বাজার এলাকায় তিন হাজার টাকায় মাসিক বেতনে ঘর ভাড়া নেন। এভাবেই ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পরিচিতি।

সানোয়ার জানায়, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে এই শিল্পকে টিকে রাখা অনেকটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কাছ থেকে প্রনোদনাসহ বিদেশে রপ্তানি করার মত সহযোগিতা পেলে এ শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। ফলে একদিকে আধুনিক যন্ত্রে কৃষি ক্ষেত্রে যেমন বিপ্লব ঘটবে ঠিক তেমনি এ শিল্প থেকে সরকারও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জোবায়ের বলেন, উপজেলায় রাসেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপসহ ছোট বড় প্রায় ৪৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে উঠেছে। মন্ত্রণালয় থেকে সারকুলেশন হলে আবেদনের মাধ্যমে তাঁদেরকে তালিকাভুক্ত করা হবে।

সানোয়ারের ওয়ার্কশপে তৈরি হারভেস্টার মেশিনের কোয়ালিটি ভালো হওয়ার কারণে উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে তিনি জানান। 


শেয়ার করুন