০৫ জুন ২০২৩, সোমবার, ০৩:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অভিজ্ঞতা ছাড়াই দারাজে পার্ট টাইম চাকরি, ৩০০ জনকে নিয়োগ তীব্র দাবদাহর কারনে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা লাইভে এসে পরীমণির স্বামী রাজ যা বললেন নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১৩ ধরনের জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমেছে হবিগঞ্জে বাস অটোরিকশার সংঘর্ষে ৩ জন নিহত, আহত অনেকেই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার, কিছু খাবার ফিটনেস ও হার্টের জন্য ভালো নয় আমের রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন পূর্ণ মৌসুম পরিবেশ বাঁচাতে অবৈধ স্মার্ট পণ্য আমদানিতে কঠোর পদক্ষেপ দাবি, বিআইজেএফ বর্তমানে দেশে ১৭০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং চলছে, নসরুল হামিদ প্রথমবারের মতো বন্ধ হচ্ছে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন
তালগাছে গ্রামবাসীর আয় ২ কোটি টাকা, তবে নেই বজ্রপাতে প্রাণহানি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৩-০৫-২৫
তালগাছে গ্রামবাসীর আয় ২ কোটি টাকা, তবে নেই বজ্রপাতে প্রাণহানি ছবিঃ তাল গাছ

তালগাছে গ্রামবাসীর আয় দুই কোটি টাকা। তবে নেই কোন বজ্রপাতে প্রাণহানি। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি তালগাছ। যত দূর দৃষ্টি যায় শুধু তালগাছই চোখে পড়ে। তালগাছের কারণে এখানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া তালগাছকে ঘিরে গরমকালের ৪ মাস এ এলাকার অর্থনীতিতে ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা যোগ হচ্ছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা বাজার। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত এলাকার ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটি।

এ বাজার থেকে বামে সড়ক ধরে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এগুলোই সড়কের দু’ধারে চোখে পড়বে এমন সারি সারি তালগাছ। শুধু সড়কেই নয়, এলাকার পথে পথে, মাঠ-ঘাটে যেদিকে চোখ যায় শুধুই তালগাছ।

তালগাছের এ গ্রামটি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ। তাল গাছের কারণে কাকিলাদহ এখন ‘তালগাছের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটিকে প্রখ্যাত বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পালের গ্রাম হিসেবেও চেনেন অনেকে।

জানা গেছে, তালগাছ ঘিরে বাড়তি মুনাফা করেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। কাঁচা তাল, তালের রস, পাকা তাল, তালের গাছ ও পাতা বিক্রি করে অর্থ আয় করেন এলাকার মানুষ। শুধু তালের রস বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন প্রায় দেড়শ পরিবার।

সুস্বাদু তালের রস খেতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় জমান। এলাকার প্রবীন ব্যক্তি ইমাম আলী। তিনি ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে তালগাছ কেটে রস সংগ্রহ করেন। সকাল-বিকেল দুই বেলা তিনি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন।

প্রতিদিন দুটি গাছ থেকে তিনি পান ৩০ লিটার মিষ্টি তালের রস। বিকেলে এসব রস তিনি নিয়ে আসনে স্থানীয় সড়কে। এ সড়কের দুই পাশে তাল গাছের দীর্ঘ সারি। বিকেলে নানা স্থান থেকে লোকজন আসেন রস খেতে। বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত মানুষের ভিড় থাকে।

এ সময় ইমাম আলীর মতো অনেক গাছি রস নিয়ে আসেন এখানে। এক গ্লাস তালের রস বিক্রি হয় ১০ টাকায়। আর এক লিটার নিলে ৫০ টাকা। বিজ্ঞাপন ইমাম আলী বলেন, ‘গরমের ৪ মাস তালগাছ কেটে রস সংগ্রহ করি। প্রতিদিন ৩০ লিটার রস পাই দুটি গাছ থেকে।

৫০ টাকা লিটার হিসাবে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় করি। ৫ জনের সংসার চালানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ জমাতেও পারি।’ কাকিলাদাহ গ্রামের জজপাড়া গ্রামের সুন্নত আলী বলেন, আমাদের গ্রামে প্রথম তালগাছ রোপণ করেন হাজি দাউদ আলী।

তিনি শিক্ষিত ও জ্ঞাণী মানুষ ছিলেন। তিনি এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক ও নিজের জমিতে তালগাছ রোপণ করেন প্রায় ৭০ বছর আগে। এরপর তার দেখাদেখি এলাকার সব মানুষ তালগাছ রোপণ শুরু করেন। এভাবে কাকিলাদাহ গ্রামটি এখন তালগাছের গ্রাম।

গ্রামটিতে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি তালগাছ আছে। বিজ্ঞাপন তালগাছে গ্রামবাসীর আয় দুই কোটি টাকা, নেই বজ্রপাতে প্রাণহানি তালের রসের ব্যবসায়ী আক্কাস আলী ও শওকত আলী বলেন, তালগাছ থেকেও যে লাখ লাখ টাকা আয় করা যায় তার উদাহরণ আমাদের গ্রাম।

আমাদের এলাকার অনেক পরিবার গরম কালের এ সময় রস, কাঁচা তাল, পাকা তাল, তাল পাতা বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা আয় করে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার লিটার রস উৎপাদন হয়।

যেসব রস বিক্রি হয় না সেগুলো দিয়ে তালের গুড় ও পাটালি তৈরি করা হয়। এছাড়া যেসব জমিতে তালগাছ আছে সেইসব জমির মালিকরা তালগাছ বর্গা দেন কয়েক মাসের জন্য। এ সময় গাছ প্রতি এক হাজার টাকা পান তারা।

কুয়েত প্রবাসী রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে আছি। এলাকায় এসে দেখলাম প্রতিদিন তালের রস বিক্রি হচ্ছে কাকিলাদাহ গ্রামে। আমাদের গ্রামের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

অনেক মানুষ প্রতিদিন আসে রস খেতে। সুস্বাদু হওয়ায় তালের রসের খ্যাতি চারিদিকে। তালগাছে গ্রামবাসীর আয় দুই কোটি টাকা, নেই বজ্রপাতে প্রাণহানি বিচারপ্রতি ড. রাধা বিনোদ পাল মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম বলেন, তালগাছ যে পরিবেশ ও মানুষের বন্ধু তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

আমাদের এলাকায় প্রতি বছর তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে। তালবীজ রোপণ করলেই গাছ হয়ে যায়, তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, প্রতি বছর তালগাছকে কেন্দ্র করে প্রায় কোটি টাকার বেশি অর্থ আয় হচ্ছে এলাকার মানুষের। অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে এটি।

এছাড়া তালগাছের কারণে স্মরণকালের মধ্যে বজ্রপাতে এ এলাকায় কোনো মানুষের মৃত্যু হয়নি। তাছগাছের ক্ষতি হলেও কোনো মানুষের ক্ষতি হতে আমরা দেখিনি। তালগাছ পরিবেশের ভারসম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থ রোজগারের বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। 

শেয়ার করুন