০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৩:২০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফের শীত বাড়তে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে ৬টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা, বিটিসিএল কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কি শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ?
সাইফুল ইসলাম মুন্না
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২২-১১-০৬
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কি শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ?

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য জিএসটি সিস্টেমে ভর্তি পরীক্ষা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মধ্যে ও আশার আলো জাগিয়েছিল । কারণ, শিক্ষার্থীরা কম ভোগান্তিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে, যা তাদের উচ্চশিক্ষাকে ত্বরান্বিত করবে।

কিন্তু এক গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা না আসায় সেই আশা পূরণ হয়নি শিক্ষার্থীদের। হতাশ করেছে অভিভাবকসহ শিক্ষকদের। কারণ, শিক্ষার্থীকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩–এ পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা পরীক্ষা নিচ্ছে, যা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়। দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছ পরীক্ষা অংশগ্রহণ না করায় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সফলভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। 

তাই সকলেই মনে করেন সরকারের বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গুচ্ছ  পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি অনেকটাই কমে যাবে। বর্তমান যুগে এই এসেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হয়, যা সত্যিই দুঃখজনক বিষয়। যদিও গুচ্ছ পদ্ধতির এ পরীক্ষায় একটি আবেদনে গুচ্ছের আওতাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকছে, তা ইতিবাচক দিক।

দেশে প্রথম বার অনুষ্ঠিত গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় নানা অসংগতি ছিল। যেমন কেন্দ্র জটিলতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় নানাভাবে আবেদনের ফি নেওয়া, ফলাফলে জটিলতা এবং আসন খালি থাকা ইত্যাদি। শুধু তাই নয় আসন খালি রেখে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়েছে দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে, যা সত্যিই ঠিক হয়নি।  কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আসন অনেক মূল্যবান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলে একজন শিক্ষার্থীর জীবনই বদলে যায়। যেসব শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তাদের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।

তাই শিক্ষার্থীদের এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। এ বছর যেন একটি আসন খালি রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ না হয়। এতে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ক্লাস ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ১ নভেম্বর ক্লাস শুরু হয়, যা সুখবর। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য যারা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সবাই একই শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী হয়েও অনেকেই ইতিমধ্যে ক্লাস শুরু করে দিয়েছে আবার অনেকে ক্লাস শুরু করতে পারেনি এখনও।

এমনকি গুচ্ছতে অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়নি এখনো। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিচ্ছে।  কারণ, তার সহপাঠী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করছে, আর সেখানে তার ভর্তির সুযোগ অনিশ্চিত। তাই দ্রুত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা একান্ত প্রয়োজন। 

শেয়ার করুন