০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৩:২৮:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে জনগণ, ফখরুল ফের শীত বাড়তে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে ৬টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে
তবে কি নৈরাজ্যের পথে যাচ্ছে পাকিস্তান
সাইফুল ইসলাম মুন্না
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২২-১১-১৩
তবে কি নৈরাজ্যের পথে যাচ্ছে পাকিস্তান

গত সপ্তাহে পাঞ্জাবের আজেবাজে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পিটিআই-এর প্রধান ইমরান খানের উপর হামলা হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও পায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি লাগায় গুরুতর আহত হন। এতে আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা। এতে ইমরান খানের দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান কে দায়ী করেন। অপরদিকে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল একে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআই চেয়ারম্যান গত সপ্তাহে ওয়াজিরাবাদে যে ঘটনা ঘটে গেল, সম্ভবত সেটা আগের কোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি। ইমরান খানের ওপর বন্দুক হামলা পুরো দেশকে গভীর নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারী গ্রেপ্তার হলেও হামলার উদ্দেশ্য এখনো রহস্যাবৃত থেকে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খুব দ্রুত এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন। তিনি তাঁদের নামও উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইমরান সেনাসদর দপ্তরের বিরুদ্ধে একধরনের যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এ হামলা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে বারুদের জোগান দিয়েছে। তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পাকিস্তান তাদের চলমান লংমার্চ কর্মসূচিতে এ ঘটনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। 

একটি সংকটময় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর পিটিআইয়ের তরফে চাপ তৈরি করার ব্যাপারটি হিসাব-নিকাশ করেই করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের কাছে লেখা চিঠিতে ইমরান ‘ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইমরান তাঁর চিঠিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করে দিচ্ছে যেসব ‘গুরুতর অন্যায় কাজ’, সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দোষী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেন। 

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে গত মাসে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। ইমরান খানের ক্ষমতা হারানোর পিছনে বিদেশি অপশক্তি তাই এমন অভিযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অস্বিকার করে এবং এর তীব্র নিন্দা জানায়। বর্তমানে দুই পক্ষের সম্পর্ক তিক্ত হচ্ছে পাকিস্তানের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী  আজম সোয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গোয়েন্দা হেফাজতে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। জ্যেষ্ঠ এই সিনেট সদস্যকে বিতর্কিত টুইটের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।  

এরই মধ্যে আজম ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করবে এমনটাই মনে করছেন বিশ্বের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করছে।

হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে ইমরান সেনা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর বিরোধ তীব্র করে তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বাহিনী গণসংযোগ দপ্তর সংবাদমাধ্যমে ইমরান খানের দলের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। কর্মকান্ড বলে দাবি করেছে এতে করে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব শিগগিরই আরো উত্তপ্ত হবে। পিটিআই নেতাকর্মীদের এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জানায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ‘চূড়ান্ত অর্থে অগ্রহণযোগ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে সতর্ক করে দিয়েছে তারা। সরকারের কাছে সেনাবাহিনীর দাবি, এ ধরনের কুৎসা রটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেয়ার করুন