০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৪:২৫:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমি দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো, হিরো আলম বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে জনগণ, ফখরুল ফের শীত বাড়তে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে
দেশের গ্যাস-সংকট করণীয় কি
সাইফুল ইসলাম মুন্না
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২২-১১-১৯
দেশের গ্যাস-সংকট করণীয় কি

বর্তমান রাস্তাঘাটে চলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অলিগলিতে একটি বিশেষ শব্দ মানুষের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শব্দটা হলো গ্যাস লিক করার শব্দ; জোরেশোরেই হচ্ছে, খেয়াল রাখলে ২-৩ মিটার দূর থেকেই শোনা যায়। ময়মনসিংহ সদরের কেওয়াটখালি এলাকার তিতাসের যে আবাসিক লাইনগুলো আছে সেগুলো নন-মিটার, তাই এগুলোর লিকেজ নিয়ে কর্তৃপক্ষের লোকজনের কোনো মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। তাছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসের মিথেন বায়ু থেকে হালকা আর লিকগুলো খোলা জায়গায় হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনাও কম। তবে বিষয়টিতে আরও ভাবনার বিষয় আছে।

মূলত এসব লিক হয়ে থাকে গ্যাস লাইনে যেখানেরেগুলেটর যুক্ত করা হয়, সেখানে (সংযোগ পয়েন্ট)। সম্ভবত, প্রত্যেক বাড়িতেই সংযোগ স্থাপনের সময় রেগুলেটরের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, আর এমনিতে গ্যাসের পাইপ মাটির নিচ দিয়ে গেলেও রেগুলেটর সংযোগের স্থানটি মাটি থেকে উপরে হয়। অনেকটা উল্টো ইউয়ের মতো, যার শীর্ষে ধূসর রঙের ছোট পাতিল আকৃতির রেগুলেটর থাকে। জায়গাটিতে একাধিক অ্যাঙ্গেল, রেগুলেটরের উপস্থিতিতে কয়েকটি জয়েন্ট থাকে, যার থেকেই ফাঁকফোকর দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যায়। আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অধিকাংশ সংযোগ পয়েন্ট থেকেই অল্প হলেও লিক হয় এবং বড় আকারের লিক পাওয়া মোটেই দুষ্প্রাপ্য নয়। 

সারাদেশের সকল অঞ্চলে সরবরাহকৃত গ্যাস পাইপ এর এরকম চিত্র সচরাচর সবসময় থাকা যায়। মূলত মরিচা পড়া জং ধরা সহ বিভিন্ন কারণে গ্যাস পাইপে লিকেজ হয়ে থাকেএমন লাখ লাখ সংযোগ পয়েন্ট থেকে বছরের পর বছর, দিনে-রাতে অনবরত গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে, আর গ্যাসের এই অপচয় বন্ধে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ অপ্রতুল। হলে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণ গ্যাস অব্যবহৃত অবস্থায় অপচয় হয়ে যাচ্ছে যা দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রা চাইলে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে আমরা জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক সার এবং প্লাস্টিক কারখানার কাঁচামাল গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও দেশের খাদ্য উৎপাদন, শিল্প কারখানার পোশাক রপ্তানির হার এবং লোডশেডিং হবে গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাংলাদেশ সরকার চাইলে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারে। একদিকে যেমন দেশীয় গ্যাসের খনি অনুসন্ধানের সরকারের আগ্রহ কম অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি আরো অনেকটা থমকে গিয়েছে। তাই গ্যাস অপচয় রোধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও এসব গ্যাস বায়ুমন্ডলের সাথে মিশে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে যা মানব জাতি এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ফলে নির্গত গ্যাস দেশের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোন দেশের মিথেন নির্গমন কেমন তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

২০২১-২২ সালের তথ্য মতে, তিতাসের বছরে বিক্রীত গ্যাসের পরিমাণ ১৫,৬৫৭ এমএমসিএম (মিলিয়ন কিউবিক মিটার) এবং আবাসিক (বৈধ) ক্রেতার সংখ্যা ২৮ দশমিক ৫৬ লাখ। হিসাবে বাসাবাড়ির সংযোগে বছরে অপচয় আসে প্রায় ২৮৬ এমএমসিএম। একজন গ্রাহকের নন-মিটার সংযোগে বিইআরসি অনুমোদিত মাসিক গড় ব্যবহার ৭৭ ঘনমিটার ধরা হয় (যদিও প্রিপেইড সংযোগের বিল অনুযায়ী এই মান ৪০ ঘনমিটার। এখন গ্যাস অপচয়ের আর্থিক দায় কি ভোক্তাদের নিতে হচ্ছে কিনা, সে ব্যাপারে প্রশ্ন থাকে)। সেই হিসাবে তিতাসের আবাসিক খাতে অপচিত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার গ্রাহকের ব্যবহৃত গ্যাসের পরিমাণের সমান; তারাই মূলত তিতাসের গায়েবি গ্রাহক, শতকরা হিসাবে যাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০০ জনে প্রায় ১১ জন। তবে, ভূগর্ভস্থ লিকেজ, বিগত কয়েক বছরে লিকেজ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা, অবৈধ সরবরাহ লাইন, ক্রেতার পরিমিত মাথাপিছু ব্যবহার, এসব হিসাব বিবেচনায় নিলে গায়েবি সংযোগ সংখ্যার মোট ও শতকরা, দুটোর পরিমাণই বৃদ্ধি পাবে।

তাই সরকারের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহ কারী কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তাদের এসব গ্যাস লিকেজ দ্রুত সংস্কার করা। অন্যথায় বর্তমান চলমান এ জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে গ্যাস অপচয় দেশের জ্বালানি সংকটকে আরো তীব্র করবে। 

শেয়ার করুন