০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৪:২৫:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমি দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো, হিরো আলম বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লুটপাটের মাশুল দিচ্ছে জনগণ, ফখরুল ফের শীত বাড়তে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি, তাপমাত্রা কমতে পারে ১-৩ ডিগ্রি হজে যেতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষায় রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ককটেল উদ্ধার হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দিতে চান এক শিক্ষক, তবে হিরো আলমের দাবি তিনি গড়িমসি করছেন আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেলেন বৃদ্ধা কল্পনা রানী শঙ্কার মধ্যেই বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে
সবাইকে গর্ব করে বলি আমি এম এ পাস চাওয়ালা
সাইফুল ইসলাম মুন্না
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২২-১১-২২
সবাইকে গর্ব করে বলি আমি এম এ পাস চাওয়ালা

করোনা মহামারী চলাকালীন অনেকে চাকরি হারিয়েছেন তবে জীবনযুদ্ধে হার মানেননি  স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মো. সহিদুল ইসলাম। চাকরি হারানোর পর জীবিকা নির্বাহের জন্য চা বিক্রি শুরু করেন তিনি। ভাটারা থানার পাশেই একটি চায়ের দোকান দিয়েছেন যার নাম রেখেছেন ‘এমএ পাস চাওয়ালা’। তাঁর চা বিক্রির খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

দোকান কেমন চলছে জানতে চাইলে শহিদুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন বর্তমানে তার ব্যবসা বেশ ভালোই চলছে।  ১ অক্টোবর দোকান চালু করি। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার চা বিক্রি করেছি। ক্রেতা আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, বিশেষ করে ১৩ নভেম্বর প্রথম আলোতে ভিডিও (মোবাইল জার্নালিজম বা মোজো প্রতিবেদন) প্রতিবেদনের পর ক্রেতার আগমন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ক্রেতাদের গর্ব করে বলি, আমি এমএ পাস চাওয়ালা। 

আলোচনা করে তাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি কেন চা বিক্রি পেশায় যোগ দিলেন। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন করণা মহামারীর সময় চাকরি চলে যায়। আমি রাজধানীর বাড্ডায় একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করতাম।  কিন্তু হঠাৎ করে মহামারী চলে আসায় বেতন 50 শতাংশ কমিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে সেই চাকরি করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে অর্ক টেক লিমিটেড নামে একটি অনলাইন (ই-লার্নিং) কোম্পানি খুলি। সেখানেও সুবিধা করতে পারিনি। সে সময় স্ত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বাধ্য হয়ে অটোরিকশা চালানোর কথাও চিন্তা করি। তারপর চায়ের দোকান দিয়েছি।

এসময় শহিদুল আরো বলেন এমএ পাশ করা একজন মানুষ চাওয়ালা হবে। দোকানে বসে চা বানাবে সবাইকে তা খাওয়াবে। বিষয়টি প্রথমে পরিবার মেনে নিতে পারেনি অনেকে অনেক কটু কথা বলেছিল। এখনো আত্মীয়দের কেউ কেউ দোকানে আসেন শুধু আমাকে নিয়ে হাসাহাসির জন্য। অপরিচিত অনেকে ফেসবুকে ট্রল (কটাক্ষ) করেন। মারমুখী আচরণের মুখেও পড়েছি। কেননা আমার কাছে মনে হয় কোন কাজই ছোট নয় বরং কাজ করে খাওয়া একটা সম্মানের বিষয়। 

যারা শিক্ষিত তারা বিষয়টি ভালোভাবেই নিচ্ছেন এবং অনলাইনে এসে আমাকে উৎসাহিত করছেন আর যারা পেছন থেকে আমার মিন্নিকে নিয়ে সমালোচনা করছে তাদের বলব, এখন আমার কাছে এগুলো সহনীয় হয়ে গিয়েছে। 

শুধু কি তার দোকানের নামের চমক আছে নাকি চায়ের স্বাদ কাছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, চায়ের স্বাদ চমক রয়েছে আমার দোকানে বেশ কয়েক রকমের চা বিক্রি করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দোকানে ইরানি জাফরান চা, ইরানি দুধ চা, ইন্ডিয়ান মালাই চা, স্পেশাল (বিশেষ) মাশালা চা, আমেরিকান চকলেট দুধ চা।  দাম প্রতি কাপ ৩০ থেকে ৭০ টাকা। চায়ের সঙ্গে আমার স্ত্রী শ্যামলী আক্তারের হাতে তৈরি মাংসের শিঙাড়াও পাওয়া যায়।

দোকান করা নিয়ে কোন ঝামেলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রথমে বেশকিছু মাস্তানরা এসে ঝামেলা করেছে।  তবে ভাটারা অঞ্চলটি আমার শ্বশুরবাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং এখানে বেশ কয়েক বছর যাবৎ থাকায় আমার চাচার শশুর ঝামেলা মিটিয়েছে। তিনি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

এ সময় তিনি আরো বলেন, চায়ের দোকানটিই আমাকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ভাটারায় যে জায়গায় মানুষের আনাগোনা বেশি, তেমন একটি জায়গায় দোকানটি স্থানান্তর করতে চাই। ভবিষ্যতে আমি আমার চা নিয়ে বিয়ে, গায়েহলুদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাই।

করোনা মহামারী চলাকালীন শহিদুলের মতো অনেকেই চাকরি হারিয়ে ছিলেন। তবে শহিদুল চেষ্টার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো তিনি সকল কাজকে সম্মান করেন। কোন কাজকে দিনে ছোট মনে করেন না। তাই আমাদের উচিত শহিদুলের মতোই জীবন যুদ্ধে হার না মেনে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

শেয়ার করুন